বুদ্ধি বৃত্তিক অক্ষমতা সম্পন্ন শিশু বা ব্যক্তি



বুদ্ধি বৃত্তিক অক্ষমতা সম্পন্ন শিশু বা ব্যক্তি

র্অথ, ধারণা এবং প্রকৃত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা তিন ভাগ মানুষের বুদ্ধি সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং প্রতি দশটি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা হচ্ছে এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা গড়মানের চেয়ে কম হয়ে থাকে। একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বুদ্ধির বিকাশ সাধারণত ধীরগতি সম্পন্ন হয়। বিকাশের অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে থাকে যেমন বসা, দাঁড়ানো, হাঁটা ও কথা বলা প্রভৃতি এবং এই অবস্থা শৈশবকালে অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সের পূর্বে ঘটে থাকে।

eyw× cÖwZewÜZvi msÁvt

According to ‘The American Association on Intellectual and Developmental Disabilities` (AAIDD)

‘Intellectual disability is a disability characterized by significant limitations both in intellectual functioning and in adaptive behavior, which covers many everyday social and practical skills. This disability originates before the age of 18’
বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা হল সেই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রতিবন্ধিতা যেখানে বুদ্ধিদীপ্ত কার্যাবলী এবং উপযোজনমূলক আচরণে তাৎপর্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা থাকে যা ধারনাগত, সামাজিক, এবং উপযোজনমূলক দক্ষতার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা ১৮ বছর বয়সের মধ্যে উৎপত্তি হয়” (AAIDD) |


বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার বৈশিষ্ট্যেঃ 


বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হল। তবে একজন ব্যক্তির মধ্যে সবগুলো বৈশিষ্ট্য একই সাথে উপস্থিত না ও থাকতে পারে। 
১.    বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া ঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, চারপাশের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এবং অন্যদের কথার প্রতি খুব দেরীতে প্রতিক্রিয়া করে থাকে। এমনকি মাঝে মাঝে তারা কোন  ধরণের প্রতিক্রিয়াই করে না। তাদেরকে একই কথা বার বার বলতে হয়।
২.    অস্পষ্টতা ঃ তারা তাদের চিন্তা, চাহিদা, এবং অনুভূতিগুলোকে ষ্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
৩.    দ্রুত শিখনে অপারগতা : বিভিন্ন রকম ও নতুন ধরণের বিষয়বস্তুু শেখার ক্ষেত্রে এ ধরণের ব্যক্তিদের সমস্যা হয়ে থাকে। পড়া লেখার ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে থাকে।
৪.    দ্রুত বুঝতে পারায় অসামর্থতা ঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের চারপাশে যা দেখছে শুনছে এবং স্পর্শ করছে সে বিষয়গুলো সম্পর্কে সহজেই বুঝতে পারে না ।
৫.    সিদ্ধান্ত  গ্রহণে অপারগতা ঃ খুব সহজ কিছু সিদ্ধান্ত তারা গ্রহণ করতে পারেনা । যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো না হয় ততক্ষণ তারা কোন কাজ কিভাবে করতে হবে বা কোন কথা কিভাবে বলতে হবে তা  বুঝতে পারে না।
৬.    মনযোগের অভাব ঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে মনযোগের অভাব দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোন একটি কাজের প্রতি দীর্ঘসময় ও ধারাবাহিকভাবে মনযোগ ধরে রাখতে পারে না। এমনকি কেউ কেউ একটি কাজ পরিবর্তন করে অন্য একটি কাজে যাবার ক্ষেত্রে সমস্যায় পরে যায়।
৭.    হটাৎ/ অল্পতে রেগে  যাওয়াঃ
অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে এ ধরণের ব্যক্তিদের সমস্যা হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অনেক সময় তারা বিভিন্ন বস্তুু ছুড়ে মারে আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেকে ও অপরকে আঘাত করে থাকে।
৮.    মনে রাখার সমস্যা ঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা, কিছুক্ষণ পূর্বে যা দেখেছেন বা বলেছেন তা খুব অল্প সময় মনে রাখতে পারেন। এমনকি মাঝে মাঝে তারা কোন কিছুই মনে রাখতে পারেন না। 
৯.    সমন্বয়ের অভাব ঃ কারো কারো মধ্যে চোষা, চাবানো ও খাবার খাওয়াতে সমস্যা হতে পারে। আবার অনেকের মধ্যে হাত ব্যবহার করে কাজ করা ও চলাচলে সমস্যা হয়ে থাকে।
   ১০.  বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে, কিছু ব্যক্তির শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে, আবার কারো কারো মধ্যে হঠাৎ জ্ঞান হারানোর প্রবনতা দেখা যায়।   অনেকেরই কথা বলার সমস্যা থাকে বা কেউ কেউ কথাই বলতে পারেনা। আবার কিছু কিছু  শিশু অপুষ্টিতে ভুগে থাকে এবং যার ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের দেহ খুব দুর্বল হয়ে পড়ে।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার শ্রেনীকরণ ঃ বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতার শ্রেণীবিভাগ বিভিন্নভাবে করা হয়ে থাকে। শিশুদের কতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবিভাগঃ

eyw× cÖwZewÜZvi †kªbxKiY t eyw× cÖwZewÜZvi †kÖYxwefvM wewfbœfv‡e Kiv n‡q _v‡K| wkï‡`i KZUzKz mn‡hvwMZv cÖ‡qvRb Zvi Dci wfwË K‡i †kÖYxwefvMt

     Intermittent  (মাঝে মাঝে): শুধু যখন প্রয়োজন তখনই অল্প সময়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান।

(Supports are provided on an “as-needed” basis, typically on a short-term basis as in transition periods.

Limited  (সীমিত): প্রয়োজন অনুযায়ী  দীর্ঘ সময়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান।  (Supports are provided consistently over a time period)

    Extensive (ব্যাপক): সব সময়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান। কোন না কোন পরিবেশে তার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। (Supports are characterized by regular involvement in at least some environments and are not time-limited)

Pervasive সব পরিবেশে সব সময়ের জন্য অনেক বেশী সহযোগিতা প্রদান প্রয়োজন হয়। (Supports are provided consistently across environments with a high level of intensity)

 

বুদ্ধি সীমাবদ্ধতার মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণীকরণ নিম্নলিখিতভাবে করা হয়ে থাকে।

স্বল্প মাত্রার বুদ্ধি চাহিদা সম্পন্ন শিশু ঃ স্বল্প মাত্রায় বুদ্ধি চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রায়শ শিক্ষাবিদরা শিক্ষাদানযোগ্য বলে থাকেন। পাশ্চাত্য দেশে এসব শিশুদেরকে শিক্ষা দেয়া হয় সাধারণ বিদ্যালয়ে সাধারণ শ্রেনীকক্ষে। বর্তমানে এ সকল স্বল্পমাত্রায়   শিশুকে নিয়মিত শ্রেনীকক্ষে স্বাভাবিক শিশুদের মাঝে রেখে শিক্ষাদানের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।  স্বল্পমাত্রায় বুদ্ধি চাহিদা শিশুদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত  সনাক্ত করা যায় না। এমনকি এও দেখা যায় ২য় ও ৩য় শ্রেনীতে তারা যখন অধিকতর জটিল শিক্ষাক্রমের সম্মুখীন হয় তখন তাদেরকে চিহ্নিত করা সম্ভবপর হয়। 
মধ্যম মাত্রার বুদ্ধি চাহিদা সম্পন্ন শিশু ঃ মধ্যম স্তরের   শিশু বলতে অনেক সময় শিক্ষাবিদগণ প্রশিক্ষণযোগ্য বুদ্ধি সম্পন্ন বুঝিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণযোগ্য শব্দটি এই বিশ্বাস বা ধারণা থেকে ব্যবহৃত হয় যে, এই শ্রেনীর   শিশুদের অধিকাংশই প্রথাগত বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম থেকে উপকৃত হবে না বরং তাদের জন্য বিশেষ নৈপূণ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দরকার। যে কর্মসূচিতে নিজের যতœ ও পরিচর্যা , ভাব বিনিময় এবং সামাজিক নৈপুণ্য অর্জনের উপর জোর দেয়া হবে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মধ্যম মাত্রার  শিশু ও তাদের সমবয়স্ক স্বাভাবিক শিশুর সার্বিক বুদ্ধি, সামাজিক এবং পেশী সঞ্চালন ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিকাশের পার্থক্য সাধারনত: বাড়তে থাকে।
গুরুতর এবং গভীর মাত্রার বুদ্ধি চাহিদা সম্পন্ন শিশু ঃ গুরুতর এবং গভীর মাত্রার বুদ্ধি সম্পন্নদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জন্মের সময় অথবা তার অব্যবহিত পরেই সনাক্ত করা যায়। এসব শিশুদের অধিকাংশের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের  মারাত্মক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয় এবং অন্যান্য আরো অনেক বৈকল্য থাকতে পারে। যদিও বুদ্ধ্যাংকের মাধ্যমে গুরুতর এবং গভীর  মাত্রার বুদ্ধি সম্পন্নদের পার্থক্য নির্ধারণ করা হয় তবুও দেখা যায় যে, দুই শ্রেনীর মধ্যে পার্থক্য প্রধানত কর্মক্ষমতার অবনতির উপর নির্ভর করে। গুরুতরদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট ভাবে নিজের যতœ নেয়ার কৌশল শেখানো, যেমন মলমূত্র সংক্রান্ত পরিক্সার-পরিচ্ছন্নতার কৌশল, পোশাক পরা খাদ্য গ্রহণ, পানীয় গ্রহণ এবং ভাষা বিকাশ ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ। একজন গভীর   ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত চাহিদা নিজে নিজে মেটাতে সক্ষম নাও হতে পারে। 


স্তর
বুদ্ধিi gvÎv

Stanford-Binet
Wechsler
মৃদু
68-52
70-55
মধ্যম
51-36
54-40
গুরুত্তর
35-20
39-25
গভীর
19 এর কম
24    এর কম
  সূত্র:বিভিন্ন প্রতিবন্ধীতা বিষয়ক বাংলা বই এবং ইংরেজী বই থেকে সংগ্রহ করা।



Comments

Popular posts from this blog

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণ কৌশল

শিশুর এ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়া যা জানা এবং বোঝা জরুরী।

প্রতিবন্ধীদের একীভূত শিক্ষায় বাধাসমূহ ও এর সমাধান